আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ডিজিটাল বাংলাদেশের বিনির্মানে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। সে লক্ষ্যেই সরকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে আইসিটি বা ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া পৌঁছে দেয়ার নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন এবং তাতে সফলও হয়েছেন। ফলে পাঠ উপস্থাপনায় এখন প্রযুক্তির সফল ব্যবহার এর শুভ সূচনা হচ্ছে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে। ফলে কম সময়ে পড়ালেখার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। পাঠ ও পাঠের বিষয় উপস্থানায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাঠ উপস্থাপনায় সেকেলে পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সাবলীল পরিবেশ পান। পাঠের বিষয় বা পাঠ্যাংশকে প্রায় জীবন্ত বা বাস্তব রূপদানের মাধ্যমে পাঠ পরিচালনা করা যাচ্ছে আইসিটি ভিত্তিক ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে।
কাজেই প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত হলো সর্বস্তরের মানুষকে আইসিটি তথা ডিজিটাল কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট এবং এর ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা। আর এ কাজটি অত্যন্ত সফলতার সাথে শুরু হয়েছে– একাজে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি বাস্তবায়ন প্রকল্প এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রজেক্ট। বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। একাজে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত সমন্বয়কের সফল দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের সকলের প্রিয় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র আইটি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষাসহ সর্বস্তরে প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটানোর জন্য।
সোনার বাংলা আইটি সোসাইটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সরকারের উদ্যোগের সাথে কাজ করতে চায়, আমাদের এই সোনার বাংলাকে ডিজিটালাইজড করার প্রক্রিয়ায় আমরা নিজেকে যুক্ত করতে পারলে ধন্য মনে করব।
যারই ধারাবাহিকতায় আমরা কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি,

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়েবভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি

hqdefault

সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়েবব্যাচ করে গড়ে তুলতে আমরা সকল প্রতিষ্ঠানে বিনামুল্যে ওয়েবসাইট করে দিতে চাই, যার মাধ্যমে প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিক্ষার ফলাফল বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ দেখতে পারবে, ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনার সন্তান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত কিনা বা কত পারসেন্ট উপস্থিত তার পড়ালেখার উন্নতি গ্রাপ আকারে সহজেই দেখতে পারবেন, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কীরূপ তা সহজেই অবগত হতে পারবেন, এবং শিক্ষার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় করনীয় দিক সমূহ সম্পর্কে মতামত দিতে পারবেন। যেকোনো প্রকার জরুরি নোটিশ সহজেই শিক্ষার্থীরা পেয়ে উপকৃত হবে। সকল শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি ও ফলাফল এতে সংরক্ষিত থাকবে যার ফলে উক্ত শিক্ষার্থীর যেকোনো প্রকার চাকুরি পেতে বা দেশের বাহিরে যেতে সুবিধা হবে। সেই সাথে তারা ওয়েবে নিজ নিজ প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে আউটসোর্সিং করতে পারবে এবং নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারবে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি পরিমানে আউটসোর্সিং পেশায় নিযুক্ত হবে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল সোনার বাংলা করে গড়ে তুলবে।

বিনামুল্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্ত বা ওপেনসোর্স সম্পর্কে ধারনা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম(লিনাক্স) ব্যাবহার ও ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ডেভেলপ করার ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি করা

Linux-Download-Free-Operating-System

 

প্রথমেই জেনে নিই মুক্ত বা ওপেনসোর্স কি, কেন?

একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করা হয় প্রোগ্রামিং কোডের উপর ভিত্তিকরে । প্রোপ্রাইটরি সফটওয়্যার কোম্পানী গুলো তাদের তৈরীকৃত সফটওয়্যার এর প্রোগ্রামিং কোড বা সোর্সকোড তাদের কাছেই সংরক্ষিত রাখে । অর্থাৎ সর্বসাধারণের এটি দেখার অনুমতি নেই । ওপেনসোর্স হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত । ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের প্রোগ্রামিং সোর্সকোড সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে । এখন কথা হচ্ছে কী লাভ এতে ?
লাভ দুপক্ষেরদই রয়েছে সফটওয়্যারটির প্রস্তুতকারকের ও তার ব্যবহারকারীরঃ
প্রস্তুতকারকের লাভ :

যেহেতু সকলেই এর সোর্সকোড দেখতে পারে তাই যে কেউ সফটওয়্যারটিকে আরো উন্নত করতে পারে । কারণ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য প্রোগ্রামার একজন আরেকজন থেকেও দক্ষ । তারা সেই সফটওয়্যারটিকে আরো উন্নত করে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে (প্রোপ্রাইটরী সফটওয়্যার কোম্পানীর ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রামারদের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে )। সফটওয়্যারে কোন ত্রুটি থাকলে সেটি প্রকাশ পাবার সাথেসাথেই সমাধান পাওয়া সম্ভব ( প্রোপ্রাইটরী সফটওয়্যার কোম্পানীর ক্ষেত্রে তাদের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে হয় কখন তারা এটির সমাধান করবে )
ব্যবহারকারীর লাভ :

ব্যবহারকারীর চাহিদার গুরুত্ব : ওপেনসোর্স এ্যাপ্লিকেশনে আপনি যদি কোনকিছু বা কোন ফিচারের অভাব বোধ করেন তবে সেটি ডেভলপারদের জানালে আপনার চাহিদা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং এপ্লিকেশনে উক্ত ফিচার যুক্ত ও করে দেয়া হবে। এমনকি মূল ডেভেলপার না করলেও অন্য যে কোন প্রোগ্রামার এ্যাডঅন/প্লাগইন হিসেবে উক্ত ফিচার যুক্ত করতে পারেন।
উন্মুক্ত সোর্সকোডের সুফল :

আপনি যদি প্রোগ্রামার হন বা শেখা শেষ করেছেন তবে ওপেনসোর্স এ্যাপলিকেশন ও তার সোর্সকোড আপনার জন্য মূল্যবান । কেন ?
ধরুন আপনার আগ্রহ বা ইচ্ছা হচ্ছে ইমেজ এডিটিং এ্যাপলিকেশন তৈরী করবেন । তবে এটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন কিভাবে ? তখন আপনি সে ধরনের ওপেনসোর্স সফটওয়্যার খুঁজে বের করে বা http://www.sourceforge.net/ থেকে এ্যাপলিকেশন এর সোর্সকোড ডাউনলোড করে বা GIMP (http://www.gimp.org/) এর সোর্সকোড ডাউনলোড করে তা স্টাডি করতে পারেন এবং শিখতে পারেন কিভাবে সে জাতীয় এ্যাপলিকেশন তৈরী করা যায় । এটাইতো ওপেনসোর্সের লক্ষ্য/উদ্দেশ্য আপনাকে এ্যাপলিকেশন তৈরী শেখা ও মডিফিকেশনের সুযোগ দেয়া । যেটা প্রোপাইটারী এ্যাপলিকেশনে সম্ভব নয় ।
ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে ওপেনসোর্সঃ

বেশীর ভাগ ওপেনসোর্স সফটওয়্যার বিনামূল্যে হওয়ায় আপনি উচ্চমূল্যের সফটওয়্যার না কিনে ফ্রি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যায় হ্রাস করতে পারেন। আপনি যখন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ক্রয় করেন তখন তাতে ছোটখাটো কিছু সফটওয়্যার দেয়া থাকে কিন্তু বাকিগুলো আপনাকে কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আপনি যদি লিনাক্স ওএস ব্যবহার করেন তাহলে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সফটওয়্যার এর সাথেই পাচ্ছেন যেমন Openoffice (মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প), Gimp (ফটোশপের বিকল্প),Firefox (ওয়েব ব্রাউজার) এছাড়াও আরও নানান সফটওয়্যার আপনি একদম বিনামূল্যে পাচ্ছেন।
স্বচ্ছতাঃ

ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। যেমন আপনি একটি সফটওয়্যার ক্রয় করলেন যেটির সোর্সকোড উন্মুক্ত নয়। এখন সেই সফটওয়্যারে যদি কোন গোপন কোড থাকে যেটি আপনার গোপন তথ্য পাচার করে দিতে পারে এমন কিছু থাকলে তা আপনার বোঝার কোন উপায় থাকবেনা। কিন্তু ওপেনসোর্স ব্যাপারটি পুরোপুরি স্বচ্ছ কারণ আপনি সফটওয়্যারটির প্রোগ্রামিং কোডগুলো দেখতে পাচ্ছেন এবং অনাকাঙ্খিত কোড এর উপস্থিতি সহজেই বের করতে পারছেন।

আর ওপেনসোর্স মানেই ফ্রি সফটওয়্যার নয় । এটি বিক্রয় ও করা যাবে তবে সোর্সকোড উন্মুক্ত রেখে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওপেনসোর্স জগতে পণ্য বা অ্যাপ্লিকেশন বিক্রির বদলে উন্নত সেবা বিক্রয় করা হয়)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহার আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। যার ফলে উক্ত কোটি কোটি টাকার অপারেটিং সিস্টেম কেনা থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফটওয়্যার তৈরি সম্পর্কে সকলকে উদ্ভুদ্ধ করতে আমরা সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে ওপেনসোর্স অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেব। যাতে আমাদের দেশ ডিজিটাল হওয়ার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
সর্বপরি সকলের মাঝে আইটি শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়াই আমাদের লক্ষ্য।